উত্তর সাগরে বায়ুবিদ্যুৎ গ্রিড গড়তে ১০ দেশের চুক্তি

উত্তর সাগরে বড় আকারের অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ গ্রিড গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাজ্য ও আরো নয়টি ইউরোপীয় দেশ।

উত্তর সাগরে বড় আকারের অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ গ্রিড গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাজ্য ও আরো নয়টি ইউরোপীয় দেশ। এ চুক্তির লক্ষ্য হলো অঞ্চলটিতে উপযোগিতা হারানো জ্বালানি তেল ও গ্যাসক্ষেত্রকে পরিষ্কার জ্বালানি কেন্দ্রে রূপান্তরের সুবিধা নেয়া। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সমুদ্রে স্থাপিত বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো হাই-ভোল্টেজ সাবসি কেবলের মাধ্যমে একাধিক দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হবে। এতে মোট ১০০ গিগাওয়াট অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হবে, যা দিয়ে আনুমানিক ১৪ কোটি ৩০ লাখ বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে।

যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ের জ্বালানিমন্ত্রীদের স্বাক্ষরের মাধ্যমে ‘হামবুর্গ ঘোষণা’ নামে এ চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল গতকাল।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, ‘পরিষ্কার জ্বালানির পক্ষে জোরালো অবস্থান ও জীবাশ্ম জ্বালানির চড়াই-উতরাই থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করছে যুক্তরাজ্য।’

এমন এক সময় ১০ ইউরোপীয় দেশের চুক্তির ঘোষণা এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর সাগরে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপাদন ধাপে ধাপে বন্ধের ব্রিটিশ পরিকল্পনার সমালোচনায় মুখর। বায়ুবিদ্যুৎ সম্পর্কিত ইউরোপের পদক্ষেপের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

গত সপ্তাহে দাভোস সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইউরোপজুড়ে শুধু উইন্ডমিল আর উইন্ডমিল। এগুলো সবই ব্যর্থ। আমি একটা বিষয় লক্ষ করেছি, যে দেশে যত বেশি উইন্ডমিল থাকে, সে দেশ তত বেশি অর্থ হারায় এবং দেশটির অবস্থা তত খারাপ হয়।’

নতুন এ চুক্তি ইউরোপের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বায়ুবিদ্যুতের প্রতি প্রতিশ্রুতিকে আরো দৃঢ় করেছে বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের।

তিন বছর আগে উত্তর সাগরঘেঁষা দেশগুলো ২০৫০ সাল নাগাদ ওই অঞ্চলে ৩০০ গিগাওয়াট অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ স্থাপনা নির্মাণের অঙ্গীকার করেছিল। নতুন এ অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ গ্রিড সে লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জার্মানি, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসে একটি ‘স্টেটমেন্ট অব ইনটেন্ট’ বা অভিপ্রায়পত্রেও স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী অফশোর বিদ্যুৎ প্রকল্প উন্মুক্ত এ সমঝোতার প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে যৌথ পরিকল্পনা ও ব্যয় ভাগাভাগির ওপর জোর দেবে দেশগুলো।

যুক্তরাজ্যের জ্বালানি খাতের সংগঠন এনার্জি ইউকে জানিয়েছে, উত্তর সাগরকে প্রকৃত আঞ্চলিক পরিষ্কার বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রূপান্তরের এ ‘ঐতিহাসিক উদ্যোগকে’ পুরোপুরি সমর্থন করে তারা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) গত বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বায়ুশক্তি ও সৌরশক্তির ব্যবহার জীবাশ্ম জ্বালানিকে ছাড়িয়ে যায়। ওই বছর নবায়নযোগ্য দুই উৎস থেকে ইইউর মোট বিদ্যুতের ৩০ শতাংশই এসেছে।

আরও